বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে সিদ্ধান্ত

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ, প্রতি বর্গফুটে বাড়ল ২-৩ টাকা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার।

এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২-৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে দাম ধরা হয়েছে ৫৭-৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫-৬০ টাকা। অন্যদিকে এ বছর সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং বকরির ২২-২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গত বছর লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২-২৭ টাকা ও বকরির ২০-২২ টাকা ছিল। রাজধানীর সচিবালয়ে গতকাল ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদে যেসব পশু জবাই হবে সেগুলোর চামড়া যেন সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেতন। তার নির্দেশনায় আমরা একাধিক সমন্বয় সভা করেছি এবং প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমরা এ বার্তাগুলো দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই। প্রথমত, কোরবানির পশুর চামড়া যেন সংরক্ষণ জ্ঞান বা প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে নষ্ট না হয়। এজন্য সরকারিভাবে সারা দেশে লবণ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাদরাসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় লবণ পৌঁছে দেয়া হবে। দ্বিতীয়ত, কোরবানির পশু কীভাবে জবাই করতে হবে, সে বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাজার হাজার মাংস ব্যবসায়ী ও কসাইকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। একইভাবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের পর এবং ঈদের আগে ইমাম সাহেবরা মুসল্লিদের এ বিষয়ে সচেতন করবেন, যেন চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোরবানির চামড়া যেন ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয় এবং লবণ মাখানো হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ঈদের দিন ও ঈদের পরবর্তী সময়েও তদারকি করবে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক টিম সারা দেশে সক্রিয় থাকবে। পাশাপাশি আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও অনুরোধ জানাব, যেন তারাও এ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ এবং দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষা করা।’

আরও